![]()


সংবাদদাতা ::
কোটি টাকার ঘুষের বিনিময়ে মৌলভীবাজার জেলার পুলিশ সুপার (এসপি) পদে পোস্টিং পাওয়ার প্রাথমিক সত্যতার অভিযোগে সদ্য যোগদান করা এসপি মো. রিয়াজুল ইসলামকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। শুক্রবার পুলিশ সদর দপ্তর থেকে জারি করা এক অফিস আদেশে তাকে দায়িত্ব হস্তান্তর করে ১৬ মে পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সে রিপোর্ট করতে নির্দেশ দেওয়া হয়।
পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সের ইন্সপেক্টর জেনারেল অব পুলিশ আলী হোসেন ফকিরের পক্ষে পার্সোনাল ম্যানেজমেন্ট-১ শাখার মো. রায়হান উদ্দিন খান স্বাক্ষরিত ওই আদেশে বলা হয়, মৌলভীবাজার জেলার পুলিশ সুপার রিয়াজুল ইসলামকে পরবর্তী জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার কাছে দায়িত্ব বুঝিয়ে দিতে হবে।
সূত্র জানায়, চলতি মাসে এসপি পর্যায়ে ১২ জন কর্মকর্তাকে পদায়ন করা হয়। এরপর বিভিন্ন জেলায় এসপি পদে নিয়োগকে কেন্দ্র করে মোটা অঙ্কের অর্থ লেনদেনের অভিযোগ ওঠে। এরই মধ্যে ঝালকাঠির এসপি হিসেবে পদায়ন পাওয়া প্রত্যুষকে যোগদান থেকে বিরত রাখা হয়। একইভাবে পঞ্চগড়ের এসপি মিজানুর রহমান ও ফেনীতে পদায়ন পাওয়া মাহবুব আলমের বদলিও বাতিল করা হয়।
অভিযোগ রয়েছে, আড়াই কোটি টাকার চুক্তিতে মৌলভীবাজারের এসপি হিসেবে বদলি হন রিয়াজুল ইসলাম। তবে পদায়নের পর চুক্তিকৃত অর্থ পরিশোধ না করে সংশ্লিষ্ট পক্ষকে ঘোরাতে থাকেন তিনি। অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, নিয়োগ পাওয়ার দুই দিন পর ৭ মে এক আত্মীয়ের অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে ২০ লাখ টাকা পরিশোধ করা হলেও বাকি ২ কোটি ৩০ লাখ টাকা নিয়ে টালবাহানা করা হচ্ছিল।
গত ৫ মে ১২ জেলার পুলিশ সুপারসহ ৩৯ কর্মকর্তার বদলির পর থেকেই নিয়োগ বাণিজ্যের অভিযোগ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। অন্তত একজন এসপির বদলিকে কেন্দ্র করে কয়েক কোটি টাকার লেনদেনের তথ্য-প্রমাণও অনলাইনে ছড়িয়ে পড়ে।
এদিকে, রিয়াজুল ইসলামের অতীত রাজনৈতিক পরিচয় নিয়েও আলোচনা চলছে। তিনি বুয়েটের সাবেক ছাত্রলীগ সংশ্লিষ্ট নেতা ছিলেন বলে বিভিন্ন মহলে দাবি উঠেছে। পাশাপাশি তিনি বঙ্গবন্ধু প্রকৌশল পরিষদের আজীবন সদস্য বলেও জানা গেছে।
রিয়াজুল ইসলামকে কারা পদায়ন দিয়েছিলেন এবং পরে তাদের সঙ্গে কী ধরনের বিরোধ তৈরি হয়েছে, তা নিয়েও প্রশাসনিক অঙ্গনে নানা আলোচনা চলছে।